Thursday 3rd of December, 2020 | 7:23 PM

‘অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’

জুবায়ের আহমেদ জীবন
  • শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
'অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে'
'অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে'

‘অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’

'অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে'

‘অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’

কি শিরোনাম দেখে অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ারি কথা, আমিও অবাক হয়েছিলাম চাকরি বিজ্ঞপ্তি’র অভিজ্ঞতা অংশ দেখে। যখন সারা দেশে প্রায় পাঁচ কোটি শিক্ষিত বেকার তখন চাকরি দাতাদের বিজ্ঞপ্তিপত্রে এমন শর্তানুগ কর্মচুক্তি দেখে কেইবা চাবে সেখানে সিভি জমা দিতে। যদিও কোনো কোনো বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দেওয়া না থাকলেও সাক্ষাৎকারের সময় ঠিকি অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। দৈনিক ইত্তেফাকের একটি রিপোর্টে দেখা গেছে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত(সাত বছরে) নতুন করে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বেকার হয়েছে। দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে বাংলাদেশে ৪ কোটি ৮২ লাখ শিক্ষিত বেকার হয়েছে। বেকারত্ব বলতে শ্রমশক্তির সেই ব্যক্তিবর্গকে বুঝানো হয়, যারা একটি নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে সন্ধান করা সত্ত্বেও কোন কাজ পায় না। বাংলাদেশের শ্রমশক্তি সম্পর্কিত জরিপে (এলএফএস) ১০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের এমন ব্যক্তিকে বেকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত রমজানের পর বিভাগীয় সিটি শহর রংপুর গিয়েছিলাম। কর্মসংশ্লিষ্টতার সুবাদে একজন শিক্ষিত বেকারজীবির সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল। ভাবছেন বেকারজীবি কেন বল্লাম, বলছি। ইংরেজিতে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে তিনি তখন বেকার নামক সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন, বর্তমানে মহ্লার মোড়ে কম্পিউটারের(মেমোরি লোড, মেমোরি, মোবাইল পার্টস বিক্রির) দোকান দিয়ে বসেছেন। তখন বেকারত্বের কলঙ্ক নিয়ে এদিক-সেদিক ঘুরে (ভবঘুরে) জীবন যাপন করতেন বলে নিজেই নিজেকে বেকারজীবি বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। আমি তেমন একটা মিশুক না হলেও কেমন করে যেন তার সাথে আমার সখ্যতা তৈরি হয়েছিল। আমাকে বেশ স্নেহ করতেন। সখ্যতার সুবাদে তার চাকরির ইন্টারভিউ সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর অবশ্য আরো অনেকের ইন্টারভিউ সম্বন্ধে জেনেছি এবং নিজেও এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু সেদিন আর নিজের প্রতিবাদ চেতনাকে দমিয়ে রাখতে পারিনি, প্রতিবাদী হয়ে বলেছিলাম, কাজ না দিলে অভিজ্ঞতা হবে কোথা থেকে? দুঃখজনক যে নিউটনের তৃতীয় সূত্র সেদিন তার প্রতিক্রিয়া প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছিল।
বাংলার অতীত ইতিহাস ছিল বেকার সমস্যামুক্ত। কৃষিকাজ, কুটিরশিল্প এবং তাঁতশিল্পে অধিকাংশ মানুষ তাদের জীবিকানির্বাহ করত। কিন্তু ১৭৫৭ থেকে ১৯৭১পর্যন্ত ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি প্রহসন ও বৈষম্য শাসনে বাংলার অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন অবহেলিত হয়েছে এবং পর্যায়ক্ষেত্রে এসে ক্রমেই ভেঙ্গে পড়ছে। যার প্রভাব আরো রূঢ় হচ্ছে। কৃষিকাজ কিছুটা বিরাজমান থাকলেও কুটিরশিল্প ও তাঁতশিল্প প্রায় হুমকির মুখে।
বাংলাদেশ সরকার বেকারত্ব দূরীকরণে নানাবিদ পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলরায় যথোপযুক্ত নয়। সেক্ষেত্রে নারীদের কর্মস্থল বৃদ্ধি না করে শিক্ষিত বেকার যুবাদের কর্মসংস্থান করা প্রয়োজন। কারণ একজন তরুণের ওপর পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। পড়াশুনা শেষে তাকে কর্মসংস্থান করে সামাজিক রীতি-নীতি পালন করে জীবন যাপন করতে হয়। ধর্মীয় সংস্কৃতিতে আমাদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক হওয়ায় সামাজিক, সাংসারিক দায়বদ্ধতা পুরুষদের ওপরই বর্তায়। তাই ১০০জন নারীর স্থলে ৭০/৮০জন পুরুষের কর্মসংস্থান করে দিলে ৭০/৮০টি পরিবার বাঁচবে। পরিবারগুলো দারিদ্র্যতার ছোবল থেকে রেহাই পাবে, বেকারজীবিরা মানবসম্পদে পরিণত হবে। তাই বলে আমি নারীদের অকর্মণ্যতার দিকে ঠেলে দিচ্ছিনা বা দিতেও বলছিনা এবং তাদের অধিকার হরণ ও স্বাবলম্বীহীনও করছিনা। হ্যা, তারা স্বাবলম্বী হবে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে, নিজের অধিকার ভোগ করবে, চাকরি করবে ঠিকি কিন্তু সেটা একটু ভিন্নতায়। আমাদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি তাঁতশিল্প, কুটিরশিল্প ইত্যাদি সমৃদ্ধশীল শিল্পকর্মে। বাংলার বধূ লজ্জাবতী এবং পর্দানশীন বিধায় তারা বাইরে অন্য পুরুষদের সাথে কাজ করতে ইতস্তবোধ করে। আর কুটির শিল্পের কাজ যেহেতু ঘরে বসেও করা যায় সেহেতু কুটির শিল্প ও তাঁতশিল্পে কাজ করে তারা স্বাবলম্বী হবে এবং সেইসাথে ঐতিহ্য-সংস্কৃতির বিকাশ সাধনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
কুটির শিল্প আটশ্রেণিতে বিভক্ত আর নারীরা তার সর্বক্ষেত্রেই অবদান রাখতে সচেষ্ট হবে। সমৃদ্ধ দেশ জাপানের রপ্তানির ষাট ভাগ কুটিরশিল্প থেকে আসে এবং সে দেশের শ্রমশক্তির শতকরা ত্রিশভাগ ক্ষুদ্রায়তন শিল্পে নিয়োজিত রয়েছে।
বলা বাহুল্য রাখেনা যে, বর্তমানে সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে অন্যতম দায়ী হিসেবে বেকারত্বও বড় ভূমিকা রাখছে। নারীদের কর্মসংস্থান আলাদা হলে তারা নিরাপদে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারছে আর তরুণ শিক্ষিত বেকাররাও সামাজিক অপকর্মে(চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মাদক সেবন ইত্যাদি) লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকবে। এজন্য শিক্ষা ও কর্ম ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সাধন করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo