Tuesday 1st of December, 2020 | 1:56 AM

আসছে রমজান,আমরা প্রস্তুত তো! 

মোঃ শরিফুজ্জামান
  • বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২০

শনিবার থেকে শুরু হতে পারে পবিত্র ...আসছে রমজান,আমরা প্রস্তুত তো! 

-এম আজম
দেখতে দেখতেই একটি বছর পেরিয়ে গেলো, কেটে গেল কতগুলো দিন; আবারও মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে কড়া নারছে পবিত্র রমজান। গরিব- ধনীর ভেদাভেদ দূর করে সমানুভূতি উভয়ের মাঝে জাগ্রত করবে। সুস্থ্য জীবন গড়ার অনন্য সুযোগ এই মাহে রমাদান। ইসলামের প্রাথমিক যুগে রোযা ফরজ ছিলনা। সেসময় মুসলমানরা অতন্ত্য দুঃখ- কষ্ট আর নির্যাতনের মধ্যেও গোপনে নিজেদের ঈমান রক্ষা করা ও নামায বন্দেগি করে যাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় যখন মুসলমানদের প্রতি মক্কার কাফেরদের জুলুম- নির্যাতন মাত্রাতিরিক্ত, অসহনীয় পর্যায় গেলো তখনি মহান মাবুদ আল্লাহর নির্দেশে রাসূল (সা) মদীনাতুল মুনওয়ারায় হিজরত করেন। অতঃপর হিজরতের ২য় বর্ষে সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াত নাজিলের মাধ্যমে মুসলমানদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়। উক্ত আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতাআ’লা ঘেষণা করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী নবীগণের অনুসারীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন কর।” পূর্ববর্তী প্রত্যেক নবীর শরীয়তের চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযার ফরজ ছিল। ইবনু কাছীর (রহ) সূত্রে জানা যায়, মুফাসসির দাহ্হাক  বলেছেন এ বিধান হযরত নূহ (আ) হতে আখেরি নবী মোস্তফা (সা) পর্যন্ত এ হুকুম ছিল।
রোযা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত আর্শীবাদ, রহমত। রোযা রাখা মানব দেহের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং সেইসাথে শারীরিক সুস্থতায় অর্ণনীয় কার্যকরী। আমরা ইতোমধ্যেই একটা বিষয় সকলেই খেয়াল করেছি ইসলাম যে মানুষের জন্য যা কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তার কোনটার সাথেই বিজ্ঞান দ্বি-মত পোষণ করেনি বরং ইসলাম নির্দেষিত আদেশগুলো পালন এবং নিষেধগুলো বর্জনে উৎসাহিত করেছে। আরো একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, বিজ্ঞানে বিজ্ঞানে সাংঘর্ষিকতা থাকলেও ইসলামের সাথে সেটা কখনোই ঘটেনি। আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে সাইয়্যেদুল মুরসালিন হযরত মুহাম্মদ (সা) মেডিকেল সাইন্সের সকল তত্ত্ব মানব জাতির জন্য উন্মোচন করে গেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞান ইসলামের দৈহিক অনুশাসনগুলোকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে বছরে এক মাস রোযা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য শুধু উপকারীই নয় বরং অপরিহার্য বলেও অনেক চিকিৎসক মত দিয়েছেন।
রোযার মাত্র দিন কতক বাকী। কিন্তু এত সন্নিকটে রমজান থাকা সত্ত্বেও আমাদের মাঝে তেমন কোন প্রস্তুতি নেই। অথচ আমাদের প্রিয় নবী (সা) রমজানে দু’মাস আগ থেকেই প্রস্তুতি নিতেন। সহীহ হাদীসে এসেছে রাসূল (সা) রজব মাসের চাঁদ দেখেই এ দোয়া পড়তেন, “হে আল্লাহ তুমি আমাদের বরকত দাও রজবে ও সাবানে এবং পৌঁছে দাও রমজানে।” [মুসনাদে আহমদ]
শত দূর্যোগে মাঝেও আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা মুসলিম। আর মুসলিমরা কখনো ঘাবড়ে যায় না, নিজের দায়িত্বের কথা ভুলে যায় না। বিস্মৃত হয়না পরকাল ও ধর্মের কোনো বিষয়ে।
বিপদ- আপদে বান্দা বেশি বেশি তার রবের ইবাদতে মনোনিবেশ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের বেলায় বর্তমান পরিস্থিতিতে তার উল্টোটা ঘটছে। আমরা ভুলে যাচ্ছি আমাদের জীবনের লক্ষ্য, ভুলে যাচ্ছি আমাদের করণীয় কর্তব্যের কথা। সোস্যাল মিডিয়ায় অথবা আলস্যে দিন কাটাচ্ছি। এই মহামারির অজুহাতে সব কিছুকে এড়িয়ে যাচ্ছি; আসন্ন রমজান নিয়েও তেমন কোন চিন্তা ফিকির নাই।
রমজানের প্রধান আমল দুইটি; এক. রোযা দুই. তারাবির নামায। সারাদিন অনাহারে থাকা বড় কষ্টের এবং মধুরও বটে। সারা বছর কত মজার মজার সুস্বাদু খাবার খাই কিন্তু সারাদিন রোযা রেখে ইফতারে যে তৃপ্তি হয় তার তুলনা হয়না। সারাদিন রোযা রাখার পর ক্লান্ত শরীরে প্রভুর শানে দাঁড়াতে হয় তার সন্তুষ্টি লাভের আশায়। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে হয়। একে বলে তারাবির নামায। তারাবি অর্থ বিশ্রাম। এ নামযে চার রাকাত পর পর কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া হয় বলেই একে তারাবি নামায বলে।
রমজানে আরো আমলের মধ্যে হলো কোরআন তেলাওয়াত করা। পবিত্র কালামে মাজীদে সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন,
অর্থঃ রমযানের মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য-সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়। কাজেই এখন থেকে যে ব্যক্তি এ মাসের সাক্ষাত পাবে তার জন্য এই সম্পূর্ণ মাসটিতে রোযা রাখা অপরিহার্য এবং যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হয় বা সফরে থাকে, সে যেন অন্য দিনগুলোয় রোযার সংখ্যা পূর্ণ করে।’
এ মাসে অযথা সোস্যাল মিডিয়া বা আলস্য সময় অতিবাহিত না করে যাদের কোরআন তেলাওয়াত অশুদ্ধ তা সংশোধন করা উচিত। এই মহিমান্বিত মাসে সকল ভালো কাজে একেবারেই অনান্য মাসের থেকে স্বতন্ত্র গুরুত্ব রয়েছে। দান- সদগাহ করার মর্যাদাও ভিন্ন। এক টাকা দান করলে সত্তর টাকা দানের সাওয়াব পাওয়া যায়। সহীহ হাদিসে এসেছে, রমজান শুরু হওয়ার সাথে সাথে জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জান্নাতের সমস্ত দরজা খুলে দেওয়া হয়। তাওবা কবুলের মাস রমজান, ইবাদতের বসন্ত মাসও বলা হয়। এ মাসে মহা মহিম আল্লাহ তায়া’লা তার রহমতের দ্বার খুলে দেন তার বান্দার জন্য।
যেহেতু রোযা সম্পূর্ণ শরীরবৃত্তীয় ইবাদত সেহেতু রোযার পূর্বে শারীরিক প্রস্তুতিসহ মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করাও অপরিহার্য। এই দূর্যোগময় সময়ে রোযা, তারাবি ও অন্যান্য ইবাদতসমূহ যথাযথভাবে আদায়ের মাধ্যমে করোনার আগ্রাসন থেকে মুক্তির জন্য মহান প্রভুর শাহী দরবারে আকুল প্রার্থনা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo