Tuesday 1st of December, 2020 | 1:28 AM

কবি নজরুলের জীবনী (পর্ব-৪)

জুবায়ের আহমেদ জীবন
  • শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০
কবি নজরুলের জীবনী (পর্ব-১২)
কবি নজরুলের জীবনী (পর্ব-১২)

কবি নজরুলের জীবনকথা (পর্ব- ৪)

জুবায়ের আহমেদ জীবন
(গত সংখ্যার পর)
তিনি ছোট্ট অবোধ নিষ্পাপ শিশুদের জন্য যেমন রচনা করেছেন রসালো ছড়া- কবিতা- গান তেমনি রচনা করেছেন বড়দের জন্য অনেক গল্প- উপন্যাস। সাহিত্য সাধনার পাশাপাশি সংগীতকেও তিনি গ্রাম বাংলার মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন। তিনি প্রেম- ভারবাসার গান যেমন গেয়েছেন, তেমনি বিদ্রোহের সুরও ছড়িয়ে দিয়েছেন গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে। তার প্রেমের কবিতাগুলো তাকে সম- সাময়িকতার উর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। তার প্রেম প্রতিমা রূপ ধরে এসেছে। তাই তেমনি তিনি তার ভবিষ্যদ্বাংশের সহধর্মিণীর সাথে আচরণাত্মক বা প্রেমাত্মক বাক্যে বলেছেন-
‘মোর প্রিয় হবে এসো রাণী
দেব খোপায় তাহার ফুল’
কিন্তু তার প্রেম জীবনে সাময়িকভাবেও তিনি তার প্রেমকে সম্পূর্নতায় রূপ দিতে পারেননি। তেমনি নার্গিসের সাথে বিয়ের রাতেই তাদের একতরফাভাবে বিচ্ছেদ হয়। নার্গিসের সঙ্গে তার সম্পূর্ন মিলনের পূর্ণতা পায়নি। বিয়ের রাত না ফুরাতেই বিদায় নিয়েছিলেন নজরুল। আর বলে গিয়েছিল শ্রাবণ মাসে ফিরবেন। কিন্তু কত ‘শাওন আসিল ফিরে, সে আর ফিরে এলনা’। নজরুল তখন প্রেমে পড়েছিলেন দোলনচাঁপার। কুমিল্লার দৌলতপুর থেকে কান্দিরপারের দূরত্ব আর কতটুকু! কিন্তু নার্গিস চেয়ে চেয়ে দেখলেন, তার বঁধূয়া আনবাড়ি গেলেন তারই আঙিনা দিয়া। এই নার্গিসের একটা সামাজিক ও পৈতৃক পরিচয়ও আছে। নার্গিসের সেই পরিচয় ছিল সৈয়দা আশা খানম নামে। নজরুল সৈয়দা আশা খানমের নাম পাল্টে ভালবেসে তাকে নার্গিস বলে ডাকতেন। অন্যদিকে দুলি বা দোলনচাঁপাকেও ‘প্রমীলা’ নামটি দিয়েছিলেন তিনি। নজরুল ১৯২১ সালে নার্গিসকে ছেড়ে এসে ১৯২৪ সালে দুলি অর্থাৎ প্রমীলাকে বিয়ে করেন। অবশ্য বিয়ের কথাটি আমি যত সহজে বলছি তা কিন্তু তত সহজে মিটেনি। তারা দু’জনে ছিল ভিন্ন ধর্মের (নজরুল ছিল মুসলিম আর প্রমীলা ছিল হিন্দু)। ভিন্ন দু’সম্প্রদায়ের মধ্যে মিলন ক্ষেত্রে এক হওয়া মুখের কথা নয়। এজন্য যত চড়াই- উথরাই পেরুতে হয়, সব পেরিয়ে নজরুলের সংসারে এসেছিলেন প্রমীলা। ওদিকে নজরুল যে আর ফিরবেনা সে কথা বুঝে নিতে নির্বোধ নার্গিসের সময় লেগেছিল সতেরো বছর।
আমরা আমাদের প্রিয় কবি নজরুলের নামের আগে “বিদ্রোহী” তকমা জুড়ে দিয়ে একটি নিদির্ষ্ট ছাঁচে বেধে ফেলার যতই চেষ্টা করিনা কেন, তিনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন-
‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী’। কৃষ্ণের বাঁশরী শুনে রাধার জগৎ সংসার মাথায় উঠবে এটাই তো চিরন্তরের গল্প। নজরুলের জীবনে তাই নানাভাবে এসেছিলেন নারীরা। কখনো রানু সোম (প্রতিভা বসু), কখনো নোটন মৈত্র বা জাহানারা চৌধুরীর সঙ্গে তার তৈরি হয়েছিল নারা মাত্রার সম্পর্ক। এসব প্রেমাত্মক সম্পর্কে তিনি জড়িয়েছেন সহজে, আর বেরিয়ে এসেছেন সহজাত নৈপুন্যে। শুধু কিছু অসাধারণ গান ও কবিতা তার এসব সম্পর্কের কালজয়ী সাক্ষী হয়ে রয়ে গেল শ্রোতা হৃদয়ে। (চলবে)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo