Wednesday 5th of August, 2020 | 7:48 PM

কবি নজরুলের জীবনী (পর্ব-৮)

জুবায়ের আহমেদ জীবন
  • বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০
কবি নজরুলের জীবনী (পর্ব-১২)
কবি নজরুলের জীবনী (পর্ব-১২)

কবি নজরুলের জীবনকথা (পর্ব-৮)

জুবায়ের  আহমেদ জীবন
(গত সংখ্যার পর)
ওদিকে যাই হোক না কেন! কবি নজরুল ইসলাম যে একজন বৈপ্লবিক ও বিদ্রোহী ব্যক্তি ছিলেন সে কথা অবশ্য কারো অজানা নয়। কবি ছিলেন বিজ্ঞানমনস্ক, স্বাধীনতা প্রেমিক ও মুক্তমনা। তার বৈপ্লবিকতা ও বিদ্রোহীতার কারণে তিনি অনেকবার কারাবরণ করেছেন। তার লেখার মধ্যে স্পষ্ট প্রকাশ পায় অন্যায়- অবিচার, জুলুম- শোষণের বিরোধিতায় তার সচ্চারতা ও ক্ষুরধার কলমের কালির ফোটায়। তিনি তার বাল্যজীবন থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন। ইংরেজ রক্তচোষা কালপিটদের বিরুদ্ধে তিনি কর্কশ ও আক্রমণাত্মক ধাঁচে লিখেছেন কবিতা, গেয়েছেন গান, কঠোর হস্তে সংগ্রাম করেছেন। মূলত নজরুলের জীবন ছিল বৈপ্লবিক। অন্যায়কে তিনি কখনো কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি; সত্যের পক্ষে কলম ধরতে, বিদ্রোহ করতে চুল পরিমাণ দ্বিধাবোধ করেননি। সরকারের বিরুদ্ধে কবিতা রচনার অপরাধে দিনাজপুরসহ অসংখ্য কারাগারে অসংখ্যবার বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। তাই বলে তিনি কি কারাগারে নিশ্চুপ হয়ে বসে ছিলেন? না, তিনি জেলে বসেও লিখে গেছেন অবিরাম।
নজরুল যখন বিদ্যালয়ে শিক্ষারত অবস্থায় তখনি রুশ বিপ্লবের উদ্ভব ঘটায় স্কুল থেকে পালিয়ে বাঙালি পল্টনে যোগদান করেন। তার বিদ্রোহী মনোভাব তাকে এই বিপ্লবের সময়ও হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে দেয়নি।
১৯১৭ সাল, নভেম্বর মাস। রাশিয়া বিপ্লবের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে রাজতন্ত্রের। প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রমিক- কৃষকের রাষ্ট্র। জনগণের হাতে আসে ক্ষমতা। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এই বিপ্লবের সফলতা সে সময় বিশ্বের সব স্বাধীনতাকামী জনগণের ওপর অভাবনীয় প্রভাব বিস্তার করেছিল। এমনকি তৎকালীন ভারতবাসীর কাছেও দেখা দিয়েছিলে আশার আলো হিসেবে। এই রুশ বিপ্লব প্রভাবিত করে কাজী নজরুলকে। কবির পরবর্তী জীবন পরিক্রমা ও সাহিত্যকর্মের দিকে নজর দিলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
১৯১৭ সালের শেষার্ধে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে করাচি চলে যান নজরুল। সে সময় তিনি ছিলেন ১৮/১৯ বছরের টগবগে তরুণ। কবি হয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে অব্দি অর্থাৎ ১৯২০-১৯২১ সাল পর্যন্ত নজরুলের জীবনকাহিনী হতে সেরকম কিছু উদ্ধার করা এখন অব্দি সম্ভব হয়নি। তবে, বিপ্লবের সংবাদে অাপ্লুত হয়ে উঠেছিলেন সেদিনের নজরুল। তিনি কতটা আপ্লুত হয়েছিলেন সেটা তার পল্টনের সহযোদ্ধা শম্ভু রায়ের বর্ণনায় উজ্জ্বল হয়ে আছে; “একদিন সন্ধ্যায় ১৯১৭ সালের শেষের দিকেই হবে, হয়ত সেটা শীতের সময়। নজরুল তার বন্ধুদের মধ্যে যাদের বিশ্বাস করতেন, তাদের সবাইকে এক সন্ধ্যায় খাবারের নিমন্ত্রণ করে। ঐদিন যখন সন্ধ্যার পর তার ঘরে আমি ও নজরুলের অন্যতম বন্ধু তার অর্গান মাস্টার হাবিলদার নিত্যানন্দ দে প্রবেশ করলাম, তখন দেখলাম অন্যান্য দিনের চেয়ে নজরুলের চোখে- মুখে একটা অন্যরকম জ্যোতি খেলে বেড়াচ্ছিল। নিত্যানন্দ অর্গানে একটা মার্চিং গং বাজানোর পর নজরুল সেই দিনে যে গান গাইল ও প্রবন্ধ পড়লেন, তা থেকেই আমরা জানতে পারলাম যে রাশিয়ার জনগণ জারের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। গান- বাজনা- প্রবন্ধ পাঠের পর রুশ বিপ্লব সম্পর্কে আলোচনা হয় এবং লালফৌজের দেশপ্রেম নিয়ে নজরুল উচ্ছাসিত হয়ে ওঠেন।” রুশ বিপ্লবের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শক্তি বহুমুখী আক্রমণ প্রতিহতের জন্য জনগণ ও কৃষক- শ্রমিকদের নিয়ে রাশিয়া একটি সৈনয়দল গঠন করেছিল,  যাকে বলা হত “লালফৌজ”। (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo