Thursday 3rd of December, 2020 | 8:32 PM

কবি নজরুলের জীবনী

মোঃ শরিফুজ্জামান
  • শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২০
কবি নজরুলের জীবনী (পর্ব-১২)
কবি নজরুলের জীবনী (পর্ব-১২)
কবি নজরুলের জীবনকথা (পর্ব-১)
জুবায়ের আহমেদ জীবন
 বাংলা কাব্য- সাহিত্য অঙ্গনে নজরুল একটি পুরোধা ও বিস্ময়কর নাম। তার কাব্য সাধনায় রয়েছে বিদ্রোহী ও জ্বালময়ীতার কথা, চির-যৌবনের জয়ধ্বনি, গোলামীর ঝিঞ্জির ভাঙ্গার গান, প্রেম- বিরহ, অগ্নিবীণার সুর ও ঝংকার। তৎকালীন সময়ে তিনিই একমাত্র সাহিত্যরত্ন যিনি সর্ম্পূণ রবীন্দ্র প্রভাব মুক্ত ছিলেন। আমাদের জাতীয় জাগরণের ও প্রতিদিনের স্মরণীয়, বরণীয় বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। খুব ছোট্টবেলায় তিনি বড্ড ডানপিঠে ছিলেন। কারো শাসন- বারণ মানতেন না, নিজের ব্যক্তি স্বাধীনতাকে তিনি সেই ছোট্টকাল থেকেই আঁকড়ে ধরে বড় হয়ে ওঠেন। বেজায় একরোখা স্বভাবের হওয়ায় সবাই তাবে ‘বাউন্ডুলে’ বলে ডাকতেন। তার হৃদয়ে সাহসের তুফান ছুটে চলে। চঞ্চল এই ছেলেটিই তার সাহসিকতার পরিস্ফুটন ঘটান এই বলে-
“থাকব না’কো বদ্ধ ঘরে
দেখব এবার জগতটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ
যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।”
সবাই যখন ঘুমায়, তিনি জেগে থাকেন। সবাই যখন ঘুমে বিভোর তখন তিনি বারান্দায় দাড়িয়ে চুপি চুপি আকাশের তারাদের সাথে গল্প করেন। চাঁদের সাথে কথা বলেন। ফুলপরীদের সাথে ভাব জমিয়ে গল্প-গুজবে মত্ত হয়ে ওঠেন। তখন তার কমল হৃদয়ে ইচ্ছে জাগে-
“আমি হবো সকাল বেলার পাখি……. হয়নি সকাল ঘুমাও এখন মা বলবেন রেঁগে।”
তখন মাকে কি উত্তর দিবেন তাও ঠিক করে ফেলেন-
“হয়নি সকাল তাই বলে কি সকাল হবে নাকো?…. তোমার ছেলে উঠলে মাগো রাত পোহাবে তবে।”
ঘুম তাড়ানো, পাখি ডাকা, অসম্ভব সাহসী সেই ছেলেটির নামই তো- ‘কাজী নজরুল ইসলাম’। আমাদের সবার প্রিয় কবি তিনি। সাহিত্য অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
বাংলা সাহিত্যের এই সাহসী কর্ণধার ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামের জামুরিয়া ব্লকে এক পীর বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতামহ আমিন উল্লাহ’র পুত্র  কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ তম সন্তান তিনি। তার পূর্ব-পুরুষেরা ছিলেন বিহার প্রদেশের অধিবাসী। আসানসোলে এরা কাজী (বিচারক)-র দায়িত্ব পালন করতেন। তার পিতা ছিলেন স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন এবং মাজারের খাদেম। কবির ছোটবেলা কাটে চরম দুঃখ-দুর্দশায়। নজরুলের জন্মের পূর্বে তার পিতামাতার একাধিক সন্তানের অকাল মৃত্যু ঘটে এবং সংসারের চরম দৈন্যতার সময় তিনি জন্মগ্রহণ করায় ছোটবেলায় বাবা-মা তাকে ‘দুখু মিয়া’ বলে ডাকতেন।
চুরুলিয়া গ্রামটি গাছপালা ও সবুজের সমারোহে ভরপুর। গাছে গাছে পাখি ডাকে। ভোরের পাখির কলরবে ঘুম ভাঙ্গে এই দূরন্তপনা, স্বাধীনচেতা বালকটির। গ্রীষ্মকালে কাঠ ফাঁটা  রোদের মাঝে তিনি ঘুরে বেড়াতেন দিগ্বিদিক। সারাদিন পাড়ার ছেলেদের সাথে হৈ-হুল্লোর করে কাটাতেন। দূরন্তপনার শৈশব পেড়ুতে না পেড়ুতেই মাত্র নয় বছর বয়সে ১৯০৮ সালে পিতৃবিয়োগ ঘটে। সংসারে আবার চরম অনটনের উদয় ঘটে। পিতার অবর্তমানে সংসারের দায়-দায়িত্ব তার কাধে এসে পড়ে; পিতাকে হারিয়ে কিশোর নজরুল নিদারুণ দারিদ্র্যতার মুখোমুখি হন আর সংসারের এহেন পরিস্থিতিতে বেসামাল হয়ে পড়েন। গ্রামের মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর তিনি কিছুদিন স্থানীয় মসজিদে ঈমামতি ও মোয়াজ্জিন এবং মাজারে খাদেমের দায়িত্ব নেন। যে সময়টায় তার খেলা-ধুলা আর পড়াশুনা করে কাটানোর কথা সে সময়টায় তিনি আয়-রোজগার করে কাটান। কাজ করতে হয়েছে অন্যের দোকানে দোকানে।
স্কুলের বাঁধাধরা জীবন তার ভাল লাগত না। তাই তিনি স্কুলের বাঁধাধরা নিয়মের মধ্যে বেশিদিন থাকতে পারেননি, লেখাপড়া করতে পারেননি। তাই বলে তিনি যে কম পড়েছেন তা কিন্তু নয়! পবিত্র কোরআনের প্রথম নাযিলকৃত সূরা আলাকের প্রথম আয়াতের প্রথম শব্দের ( ইকরা= পড়) বাস্তবিক গুরুত্বকে তিনি তার জীবনে বাস্তবায়িত করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তেমন গ্রহণ করতে না পারলেও জ্ঞান আহরণে তার অস্বাভাবিক আগ্রহ ছিল। তাই তো তিনি প্রচুর লিখেছেন। (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo