Tuesday 3rd of August, 2021 | 4:50 AM

করোনায় বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংকটে চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম

ডেইলি দিনাজপুর
  • বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১
মোঃ নাজমুল ইসলাম, বীরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি সচেতনতার অভাবে এবং স্বাস্থ্য বিধি না মানার কারণে দিন দিন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। হাট-বাজার, হোটেল রেস্তোরা এবং শপিং মলগুলিতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব।

করোনার উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ভিড় করছে শতাধিক রোগী। ফলে উপজেলায় করোনার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল। এদিকে করোনা মহামারীতে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটে ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ জানা গেছে, এ পর্যন্ত উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় মোট ৫৩৭জনের নমুনা প্রেরণ করা হয়েছে। ফলাফল পাওয়া গেছে ৫২৩ জনের। এদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১৮২ জন। বর্তমানে সুস্থ্য হয়েছেন ১৬৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ২জনের।

চিকিৎসকদের আন্তরিকতার কারণে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার মান উন্নতি হয়েছে এমনটি জানিয়ে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ তানভির হোসেন বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রুগীর সংখ্যা আশংকা জনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন জ্বর, মাথা ব্যাথা, গায়ে ব্যাথা, পাতলা পায়খানা, খুশ খুশ কাশি, গলা ব্যথা, খাবার অরুচি নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খেতে হয় চিকিৎসকদের।

এদের মধ্যে ৪/৬জন রোগীর ফুসফুসে সংক্রমন লক্ষ্য করা গেছে। বেশিরভাগ রোগীর শরীরে উচ্চ জ্বর অর্থাৎ ১০২ হতে ১০৩পর্যন্ত যা করোনার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়লেও আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসক সংকটের কারণে কাঙ্খিত সেবা দেয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আফরোজ সুলতানা লুনা জানান, হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স, এক্সরে মেশিন সচল থাকলেও পালস অক্সিমিটার, সেন্টাল অক্সিজেন সিষ্টেম না থাকায় এবং আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন অকেজো থাকায় করোনা রোগীসহ সাধারণ রোগীদের সেবা ব্যহত হচ্ছে।

পাশাপাশি রয়েছে চিকিৎসক সংকট। বিশেষ করে অক্সিজেন সিলিন্ডার স্বপ্লতার কারণে শ্বাস কষ্ট এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের জেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

উল্লেখ যে, ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৯জন। এদের মধ্যে একজন দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, একজন দিনাজপুর সদর হাসপাতালে এবং একজন ঢাকায় করোনা ইউনিটে ডেপুটিশনে রয়েছেন। বাকি ৬জন চিকিৎসক দিয়ে চলেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা।

অথচ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ২১জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও এখন ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ৬ জন। এই ৬জন চিকিৎসক আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকার ফলে উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo