Monday 30th of November, 2020 | 5:15 PM

“ত্রাণদাতা নাকি ত্রাণখোর!”

  • শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২০
"ত্রাণদাতা নাকি ত্রাণখোর!"
"ত্রাণদাতা নাকি ত্রাণখোর!"

“ত্রাণদাতা নাকি ত্রাণখোর !”

-জুবায়ের আহমেদ জীবন
হা-হুতাশ আর আতঙ্কের মধ্যেই দিন যাপন করছেন সকলেই। ছোট, বড়, আবাল,বৃদ্ধ সকলেই এই করোনার আতঙ্কে চুপসে গেছে। অঘোষিত লকডাউনে দিনকে দিন জনজীবন আরো খারাপের দিকে বেগবান হচ্ছে। অনেকের মনে এখন বড় আশংকা যে, এমন চলতে থাকলে খাব কি? সরকার জনগনের জন্য ঠিকি বাজেট দিচ্ছেন, তাদের জীবন নিরাপত্তার জন্য সময়ান্তর পদক্ষেপ নিতে আছেন কিন্তু তার মাঝেও যথেষ্ট পদক্ষেপের শূণ্যতা বিরাজ করছে। সচেতন নাগরিকগণ হতাশ হয়ে পড়ছে।  নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। মন্ত্রীসভার সদস্যদের মধ্যে দু’তিন জন বাদে সবাই হোম কোয়ারান্টাইনে অবস্থান নিয়েছেন। জাতির এ দুঃসময়ে তারা লাপাত্তা কেন? ভোটের জন্য জনগণের দুয়ারে যায় আর তাদের সেবার সময় নিজেই গৃহবন্দি! মানবতা আজ কোথায়? কোন পান্থে মানবতা হাটছে!
আমার জন্মভূমি আমার অহংকার। কিন্তু কাদের নিয়ে আজ অহংকার করব, সেই সকল লুটেরাজদের নিয়ে; যাদের রশাদাগারে বস্তায় বস্তায় চাল পাওয়া যাচ্ছে? স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর সময় কম্বল চোরা ছিল আর আজ চাল চোরা। এই সোনার বাংলা কি বঙ্গবন্ধু গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, এই বাংলা গড়ার জন্য তার নেতৃত্বে ত্রিশ লক্ষ বাঙালি জীবন দিয়েছিল?  তাহলে কেন তাদের প্রতিহত করতে এতো সময় লাগছে? কেন তৎক্ষনাৎ তাদের আইনের আওতাধীন করা হচ্ছেনা? এতে কি বিচার ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেনা, সরকারের শাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা বহ্নিত হচ্ছেনা?
কয়েকদিন থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেট দিয়ে বাহিরের লোক প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। হয়ত অনেকে আবেগের বশে কাজটি করছে একবার ভাবুন তো অত্র এলাকায় হঠাৎ কোন গুরুতর রোগীকে হাসপাতে নেওয়ার প্রয়েজন পড়ে আর যদি রেগীটি অন্তসত্তা হন তখন কি করবেন! হয়ত ব্যারিকেটের উপর দিয়ে পার করতে চাইবেন কিন্তু এতে তো আরও বিপদ হতে পারে। পাড়া বা মহল্লার লোকেদে জরুরী কোন কাজে বাইরেও যেতে হতে পারে এতে কে বা কারা বিড়ম্বনায় পড়বে! করোনাকালীন এ দূঃসময়ে শহর ছেড়েছেন অনেকে, বর্তমানে গ্রামগুলো এখন লোকপূর্ন। তাই অনেককেই নানা জরুরী কাজে বের হতে হবে এজন্য যাতায়াত করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে। চলমান দূর্যোগে আরো নতুন করে যেন কোন বিড়ম্বিত দূর্যোগের তৈরি না হয় সেদিকে অবশ্যই দৃষ্টি রাখতে হবে। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কিছু সেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে তাদের সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্ব দিতে পারেন।
দেশের বিভিন্ন স্থান হতে অভিযোগ উঠতেছে ত্রাণে যা বাজেট দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্নভাবে জনসাধারণ পাচ্ছেনা কিন্তু কেন? কারা লুট করতেছে ত্রাণের এই অংশ? তারা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে এমন হাজারো প্রশ্ন তৈরি করছে জনমনে। ত্রাণকর্তাদের কি বিবেকবোধ লোপ পেয়েছে এমন পরিস্থিতিতেও তিনারা জনগণের হক লুটপাট করতে ব্যতিব্যস্ত। মানবতার আহাজারিতে বিশ্বের আকাশ বাতাস যখন স্তব্ধ তখনও তিনারা অবৈধতার দেওয়াল হতে পিঠ উঠাতে ব্যর্থ। কিছুদিন আগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে গার্মেন্টস মালিকদের হটকারিতায় হতভম্ব হয়েছে মানবতা। এতগুলো মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো দুঃসাহস কোথায় জন্মায়? ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায়; তা নাহলে এমন অপরাধ করা সত্যেও বুক উচিয়ে কথা বলে কিভাবে! জনগণকে করোনার ভয়াল থাবা থেকে বাঁচাতে সরকার ব্যস্ত আর অন্যদিকে সরকারের নাম ভাঙ্গিয়ে খাওয়া ঘাপটিবাজ বাটপারদের মদদে পুষ্ট হচ্ছে স্বার্থপিয়াসু হীন্যরা।
লেখকঃ ছাত্র, একাদশ শ্রেণি, মানবিক বিভাগ; কাঞ্চন নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ, বিরল, দিনাজপুর।   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo