Sunday 19th of September, 2021 | 11:49 PM

দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দেওয়ায় আজ দিনাজপুরে শপিংমল গুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়

ডেইলি দিনাজপুর
  • রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  ঈদকে সামনে রেখে দিনাজপুরে সীমিত আকারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিং মলগুলো খোলা হয়েছে। শপিংমল খোলার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই কেনাকাটা করছেন মানুষ।
 সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা থাকবে। তবে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবাইকে বেচাকেনা করতে হবে।শপিংমল খুলে দেওয়ার প্রথম দিনে দিনাজপুর শহরের মালদহপট্টির, গনেশতলা,বাহাদুর বাজার এলাকার বেশ কয়েকটি শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, দোকান গুলোতে ক্রেতাদের উপছেপড়া ভিড় । সকাল ৯টা থেকেই শপিংমলগুলোর দোকানীরা ব্যাস্ত সময় পার করছেন। কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পেয়ে খুশি তারা।
মালদহপট্টির বাবা বস্ত্রালয়ের  বিশ্বজিৎ বলেন, সরকারের নির্দেশনায় এতদিন মার্কেট বন্ধ ছিল। যখন মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত জানানো হলো শুনে খুব ভালো লাগছিল। আজ দোকান খোলার পর ক্রেতা দের উপস্তিতি দেখে বেশ ভালো লাগছে । দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, মালামাল পাইকারি কেনা সব মিলিয়ে আমরাই অসহায় অবস্থায় আছি। করোনা আমাদের গত বছর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আজকের মতো এ অবস্থায় বিরাজমান থাকলে তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব। যারা মার্কেট করতে আসতেছেন তাদেরকে  মুখে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বে  বসার জন্য বলতেছি ।
কাপড় দোকানি বেলাল বলেন, দোকান খোলার পর কাস্টমারের আনাগোনা, বেচা-বিক্রি শুরু হয়েছে । দোকান এতদিন বন্ধ ছিল কিন্তু আমাদের তো দোকানের ভাড়া, কর্মচারীর বেতন ঠিকই দিতে হয়েছে। এখন দেশের করোনা পরিস্থিতির অবনতি দেখে ব্যবসা করার কোনো উপায় দেখছি না। সামনে ঈদ আর ঈদেই পুরো বছরের ব্যবসা করে দোকানিরা। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। করোনাকালে মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটাই করে না। মাঝখান থেকে আমরা দোকানি, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা বিপদে পড়ে আছি। পারছি না ব্যবসা ছাড়তে, না পারছি নতুন মালামাল কিনে ব্যবসা বাড়াতে।
ছয় মাসের বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে আসা গৃহিনী নারগিছ আকতার বলেন, ডাক্তার দেখাতে শহরে আসছিলাম। আজ শপিংমল খুলেছে জেনে এসেছি। বাচ্চার জন্য জামা কাপড় কেনা জরুরি ছিল। যেহেতু আজকে শহরে এসেছি তাই শপিং করে একেবারে বাসায় যাব। আর কবে শহরে আসব তার ঠিক নাই তাই আজকে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করবো।
শপিং করতে আসা আব্দুর রহিম মেয়ের অভিমান ভাঙ্গাছেন। কথা হয় রহিমের সাথে। রহিম বলেন, মেয়ে জন্য শপিং করতে বাজারে এসেছিলাম। ওর একটা ড্রেস খুব পছন্দ হয়েছে। দাম একটু বেশি, আমি নিতে বারণ করায় মেয়ে অনেক অভিমান করেছেন।
শপিং করতে আসা আরো কয়এক জনের সাথে কথা বললে তারা জানন, শপিংমল গুলোর খুলে দেওয়ার আজকে প্রথম দিন জেনে  শপিং করতে এসেছেন। তারা মনে করেছেন যে আজকে মার্কেটে ভিড় কম হবে, এসে দেখেন ভিন্ন চিত্র শপিংমলগুলোর। সামাজিক দূরত্ব স্বাস্থ্যবিধির কেউ তোয়াক্কাই করছে না। এর ফরে সামনের দিনে করোনার আরো ভয়াবহ রুপূ নিতে পারে। এমন আবস্থায় সরকারকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আরো কঠোর হতে হবে। সাধারণ মানুষ সচেত না হলে এই মহামারী করোনা থেকে বরে হওয়া খুব কষ্ট হয়ে দ্বারাবে সরকারে জন্য ও আমাদের জন্য ।
শহরের শপিংমলে  দেখা গেছে ক্রেতাদের মুখে মাস্ক পরিধান  করলেও দোকানির মুখে মাস্ক ছিল না।  দোকানগুলোতে  ক্রেতা জন্য ছিল না হ্যান্ড সেনিটাইজার ।আইনশৃংখলা বাহিনীর কাউকে শপিংমল গুলোতে টহল দিতে দেখা যায়নি।
এদিকে দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন রাস্তার পয়েন্টে ঘুরে দেখা যায়, মানুষের ঢেল নেমেছে শহরের রাস্তা ঘাট ও কাচা-বাজারে। রোববার সকাল থেকেই শহরের রাস্তাঘাট ও কাচা বাজার গুলোতে ব্যাপক ভীড় লক্ষ করা গেছে। ভীড় ছিলো ব্যাংকের সকল শাখাগুলোতেও।
দিনাজপুর শহরে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশশের সাথে কথা বললে তারা জানান, আজ থেকে শপিং মল সীমিত আকারে খুলে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন সরকার। এর ফলে সকাল থেকে শহরে গাড়ি চলাচল বেড়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo