Monday 30th of November, 2020 | 4:56 PM

প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য নয়াবাদ মসজিদ।

মোঃ শরিফুজ্জামান
  • শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯

মোঃ শরিফুজ্জামান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরের প্রাচীনতম নিদর্শনের মধ্যে নয়াবাদ মসজিদ অন্যতম। এটিকে আবার প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যও বলা হয়।

আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগে  তৎকালীন রাজা রামনাথ রায় দিনাজপুরে একটি মন্দির স্থাপনের উদ্যোগ নেন। রাজা রামনাথ রায় সকল প্রজাদের সাথে নিয়ে মন্দির স্থাপনের কাজ শুরু করেন। মন্দির নির্মাণের জন্য অনেক দূর দূরান্ত থেকে বিভিন্ন কারিগর নিযুক্ত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন মুসলমান কারিগরও ছিলেন। তারা ইরান থেকে এখানে কাজ করার জন্য এসেছিলেন। মন্দিরের কাজ চলাকালীন মুসলমান কারিগরেরা নামায পড়ার কোন জায়গা পাচ্ছিলেন না। তাই তারা রাজার কাছে আবেদন জানায় যে তাদের জন্য একটা মসজিদ নির্মাণ করতে। রাজা তাদের আবেদন গ্রহণ করে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি প্রদান করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজার শর্ত অনুযায়ী প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে তারা মসজিদ নির্মাণ করেন। ইরানের কারিগররা প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামায এই মসজিদে আদায় করতেন। সেখানে আশে পাশে ওই সময়ে কোন মুসলমান না থাকায় তারা ঘরোয়া পরিবেশে ছোট পরিসরে মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটিই বর্তমান কালে নয়াবাদ মসজিদ নামে পরিচিত। তবে ইরানের কয়েকজন কারিগরের মধ্যে এক জনের কবর মসজিদ প্রাংগনে এখনো দৃশ্যমান হয়ে আছে।

কবর সম্পর্কে প্রথমে জানতে চাইলে এলাকার কয়েকজন স্থানীয়রা ও মসজিদে নিযুক্ত খাদেম বলেন, এই কবরটি এই মসজিদের একজন কারিগরের কবর। অপরূপ সৌন্দর্যে পরিবেষ্টিত এই মসজিদে প্রতি নিয়ত স্থানীয় মুসলমানরা মসজিদে এসে নামায আদায় করেন। মসজিদের আশে পাশের প্রকৃতিও দেখতে অনেক সুন্দর। মসজিদের আশে পাশে অসংখ্য লিচুর বাগান দেখে মুগ্ধ হয়ে যায় দর্শনার্থীরা। প্রায় দূর দূরান্ত থেকে এই মসজিদটিকে দেখতে আসে অনেক মানুষ। অনেকে আবার নামাযও আদায় করেন।

মসজিদের খাদেম আরও বলেন, মসজিদটি ৪০০ বছরের পূরনো হওয়ায় এখন সংস্কারের কাজ চলছে। কিছু কিছু অংশ ফাটল ধরায় এই মসজিদটিতে নামায পড়ার অনুপযোগী হয়ে ওঠে। তাই পুনরায় সংস্কারের কাজ শুরু হয়।

দিনাজপুর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে কাহারোল উপজেলার ঢেপা নদীর তীরে কান্তজীউ মন্দীর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে মিস্ত্রি পাড়া নামক গ্রামে অবস্থিত এই নয়াবাদ মসজিদ। এই মসজিদে যেতে ৩ কিলোমিটার সাপের মতো আকা বাকা পথ পাড়ি দিতে হয়।

১৭০৪ সালে নির্মিত এই মসজিদ বিভিন্ন ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ধারণ করে কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে সকলের মাঝে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo