Tuesday 1st of December, 2020 | 2:10 AM

বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

জুবায়ের আহমেদ জীবন
  • শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা:

ভাষা বহতা নদীর মতো চলমান। এক যুগ থেকে আরেক যুগ করে ঘুরে কালান্তরে রূপের পরিবর্তন করে বর্তমানে এসে ঠাঁই নেয়। মানুষকে এতো সুন্দর অবয়বে গঠন করে তার মাঝে কথা বলার, মনের দুঃখ-বেদনা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস অর্থাৎ মনের ভাব প্রকাশের জন্য ভাষা প্রদান মহান মালিকের অশেষ রহমত। প্রত্যেক জাতির নিজস্ব বর্ণ আছে, ভাষা আছে। “ভাষা”শব্দটি শুনতে খুব ছোট্ট মনে হলে এর নেপথ্যে রয়েছে নিগূঢ় রহস্য, মমতা, আত্মিকতা, ভালবাসা। আজ অবধি পৃথিবীতে অনেক জাতিই মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম করেছে কিন্তু মাতৃভাষার রক্ত ঝরানোর ঘটনা একমাত্র আমাদের। শুধু রক্ত ঝরিয়ে খান্ত নই জীবন দিতেও দ্বিধা-সংশয় ছিলনা মোদের।

প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনেরর পর ১৯৪৭ সালের আগষ্টে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তিতে পাকিস্তান নামক দ্বি-খন্ডিক একমন্ত্রতাত্ত্বিয় রাষ্ট্র পাকিস্তানের উদ্ভব হয়। এরপর কত ইতিহাস হয়েছে এই জমিনে তা আর বলার বাকী রাখেনা। পাকিস্তান সরকার কত নিষ্ঠুর নির্মমতা ও পাথরমনা আর হীনমনা তা আমাদের ভাষা আন্দোলনে বাঁধা দেয়া ও গুলিকরে রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত, শফিকের জীবন প্রদীপ নেভানোতেই বুঝা যায়। একই মূলমন্ত্রে গঠিত হওয়া সত্ত্বেও পূর্বাঞ্চল তথা বাংলাদেশের সাথে সবসময় বৈষম্যপূর্ণ আচরণ করেছে তথাকথিত বড়রা। পাকিস্তানের কোন কাজেই পূর্ব পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য, এমনকি পাকিস্তান নামের মধ্যেও পূর্বাঞ্চলেে কোন অস্তিত্ব নাই। কেমব্রিজের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলী “PAKISTAN” নামের উদ্ভাবন করেন, নামের মধ্যেকার রহস্য হলো: পাঞ্জাবের P, আফগানিস্তানের A, কাশ্মীরের K, ইসলামাবাদের I, সিন্ধু’র S এবং বেলুচিস্তানের Tan-এর সমন্বিত রূপ হলো পাকিস্তান(PAKISTAN)।
আজ বড়ই আফসোস করে বলতে হচ্ছে, ১৯৫২ সালে রফিক, সালাম, জব্বারের আত্মত্যাগের কোন মূল্য আমরা দিতে পারিনি। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের সামনে ঘনিয়ে এলে ভাষা নিয়ে আমরা মাতামাতি করি কিন্তু একবারের জন্য হলেও ভাবিনি ৫২’র ভাষা কি আজো আমাদের মাঝে বহমান নাকি হুমকির মুখে। বর্তমান প্রজন্ম পশ্চিমামুখী, তাদের চলন-বলন, আচার-আচরণ সবখানেই আধুনিকতার ছোয়া যার ফলে মাতৃভাষা বাংলা’টাও সঠিকভাবে বলতে পারেনা। ‘হিপহপ’ ‘ডিজে’ নামক এক ধরণের মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ভুলতে বসেছে মাতৃভাষা ও তার প্রয়োগ। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষার প্রভাবে বাংলা প্রায় মন্দা বাজারের পণ্যে পরিণত হয়েছে। শিক্ষায়তনে বাংলার থেকে আজ ইংরেজি ভাষাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু শিক্ষায়তন নয় সংস্কৃতি অঙ্গনেও ইংরেজির প্রভাবমুক্ত নয় বাংলা ভাষা।
  • বাংলা ভাষার প্রতি বিদেশি ভাষার আগ্রাসণ ঠেকাতে হবে; নয়ত যেভাবে প্রায় ১৪ দিনে গোটা বিশ্ব হতে একটি করে ভাষা বিলুপ্ত হচ্ছে কোনদিন যেন বাংলাভাষা বিলুপ্তির তালিকাভুক্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo