Tuesday 1st of December, 2020 | 2:36 AM

বাইবেল ব্যর্থ কোরআনেই মিলল বিশ্ব সৃষ্টির আসল রহস্য

মোঃ শরিফুজ্জামান
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০

জুবায়ের আহমেদ জীবন, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে বাইবেলে (ওল্ড টেস্টামেন্ট) একটি মাত্র যায়গায় দীর্ঘ একক বর্ণনা কিন্তু কোরআনে তেমনভাবে একক কোন বর্ণনা নেই। একটিমাত্র ধারাবাহিক বর্ণনার পরিবর্তে বিভিন্ন জায়গায় এমন অসংখ্য আয়াত আছে। কোরআন এবং বাইবেল উভয় কবলে পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তাই অনেক ইউরোপীয় মনে করেন যে, বিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে কোরআন এবং বাইবেলের ভাষ্য একই এবং এ জন্যই এ দুটি বর্ণনা পাশাপাশি উল্লেখ করেন। কিন্তু আমি তাদের এ ধারণাকে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত মনে করি। কারণ বর্ণনার দিক থেকে উভয়ের ভাষ্যের মধ্যে স্পষ্টত অনেক পার্থক্য রয়েছে। কোরআনে এমন অনেক বিষয়ের বর্ণনা আছে যার সমকক্ষ বর্ণনা বাইবেলে নেই আবার বাইবেলেও এমন বিষয়ের বিবরণ রয়েছে যার সমকক্ষ কোরআনে নেই, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আদৌ গুরুত্বহীন নয়। উভয় বর্ণনাতেই সৃষ্টিকার্য ছয় পর্যায়ে সম্পাদনা করার কথা বলা হলেও বিষয়টি সরল নয়, বেশ জটিল। উভয় ধর্মানুসারীরা দাবী করবে, বিতর্ক করবে, বাহাস করবে নিচ ধর্মকে স্বীকৃত করার জন্যে। তাই একটু পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়াটাই সর্বত্তোম।

বাইবেলের বর্ণনা মোতাবেক সৃষ্টিকার্য ছয় দিনে সমাপ্ত করা হয় এবং সপ্তম দিন সাব্বাথ অর্থাৎ বিশ্রামের দিন ছিল। এ সাত দিন সপ্তাহের সাত দিনের সাথে তুলনা করা হয়। বাইবেলে এ বর্ণনায় অস্পষ্টতা নেই। উল্লিখিত বক্তব্যটি বাইবেলের স্যাকারডোটাল সংস্করণে বিধৃত আছে। যেহেতু এ বর্ণনায় কোন সংকীর্ণতা বা অস্পষ্টতা নেই সেহেতু এ বিষয়ে আর কোন আলোচনার যৌক্তিকতা থাকেনা বিধায় আমরা বাইবেলের ইয়াভিষ্ট সংস্করণ নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব।
খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর পুরোহিতগণ এ বর্ণনা অনুসারণ করায় সাধারণ মানুষ সাব্বাথ (হিব্রু সাব্বাথ অর্থ বিশ্রাম) পালনে উৎসাহী হয়। ঈশ্বর যেমন ছয় দিন পরিশ্রম করার পর সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবে ইহুদিগণও সাব্বাথ দিবসে বিশ্রাম গ্রহণ করবে বলে আশা করা হত। বাইবেলে যেভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তাতে দুনিয়ার একজন মানুষের কাছে দুটি সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময় বলতে যা বুঝায়, “দিন” বলতে তাই বুঝানো হয়েছে। এ অর্থে দিন তাহলে পৃথিবীর নিজ অক্ষরেখার চারদিকে একবার ঘুরে আসার ওপর নির্ভর করে। কিন্ত যখন পৃথিবী সৃষ্টি হয়নি, সূর্য সৃষ্টি হয়নি এবং পৃথিবীর নিজের বা সূর্যের চারদিকে আবর্তিত হওয়ার সুযোগই সৃষ্টি হয়নি তখন এই “দিন” এলো কোথা হতে? দিনের হিসেবই বা পাওয়া গেল কেমন করে? সুতরাং যুক্তি ও সঙ্গতির মোকাবিলায় বাইবেলের বর্ণনা আদৌ গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা।
কোরআনের বিভিন্ন তরজমা মিলিয়ে দেখা যাশ যে, বাইবেলের ন্যায় কোরআনেও ছয় দিনে সৃষ্টি সম্পাদবের কথা বলা হয়েছে। তরজমাকারীগণ সংশ্লিষ্ট আরবী শব্দটির অতি সাধারণ অর্থই গ্রহণ করেছেন। কোরআনের ৭ নং সূরা আরাফের ৫৪ নং আয়াত সাধারণ এভাবে তরজমা করা হয়ে থাকেঃ
“তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আকাশমন্ডলি ও পৃথিবী ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন।”
আরবী ভাষায় “দিন” শব্দটিকে “য়্যাওম” বলা হয়। ‘য়্যাওম’ শব্দটি একবচন, এর বহুবচন হলো ‘আইয়াম’। শব্দটির প্রচলিত অর্থ ‘দিন’। কিন্তু উল্লেখ করা দরকার যে, এ অর্থে একদিনের সূর্যাস্ত থেকে পরদিনের সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় না বুঝিয়ে একদিনের সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ই বেশি বুঝায়। বহুবচনে ‘আইয়াম’ শব্দটি কেবলমাত্র ‘দিনগুলি’ই বুঝায়না; বরং ‘সুদীর্ঘ সময়’ও বুঝিয়ে থাকে। ৩২ নং সূরা আস সাজদাহ’র ৫ নং আয়াতের তরজমাঃ
“…..যে দিন (য়্যাওম) দৈর্ঘ্য হইবে তেমাদের হিসেবে সহস্র বছরের সমান।”
উল্লেখ্য, ঠিক পরের আয়াতে ছয় মেয়াদে সৃষ্টি সম্পন্ন হওয়ার উল্লেখ আছে।
আবার ৭০ নং সূরা মা’রিজ এর ৪ নং আয়াতে বলা আছেঃ
“…..এমন একদিনে (য়্যাওম) যাহা পঞ্চাশ হাজার বৎসরের সমান।”
এ আয়াতই স্পষ্ট করে যে, য়্যাওম তথা এক দিন বলতে আসলে কি বোঝানো হয়েছে। প্রকৃত অর্থে ‘দিন’ দ্বারা দীর্ঘ কাল সময়কেই বোঝানো হয়েছে। সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কিত প্রত্যেকটি আয়াতের ব্যাখ্যায় ইউসুফ আলী’র ভাষ্যে (১৯৩৪) বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন যে, য়্যাওম শব্দটির তাৎপর্য হচ্ছে ‘অতি দীর্ঘ সময়, অথবা যুগ যুগ, এমনকি শত- সহস্রাব্দ কাল।’
সুতরাং বলা যেতে পারে যে, সৃষ্টি কার্যের জন্য কোরআনে ছয়টি সুদীর্ঘ কাল অতিবাহিত হয়েছে বলা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে  অতিশয় একাধিক দীর্ঘ মেয়াদি সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং ঐ মেয়াদকে ‘দিন’ বললে আমরা যা বুঝি সে অর্থে অনুমান হাস্যকর বটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo