Tuesday 1st of December, 2020 | 2:53 AM

“মাইরের উপর ওষুধ নাই”

জুবায়ের আহমেদ জীবন
  • সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০
"ত্রাণদাতা নাকি ত্রাণখোর!"
"ত্রাণদাতা নাকি ত্রাণখোর!"

জুবায়ের আহমেদ জীবনঃ সারা বিশ্ব কভিড-১৯ এর আতঙ্কে তটস্থ; বিশ্ব পাড়ায় হুলুস্থুল অবস্থা। জনমনে অজানা ভীতির সঞ্চার হয়েছে; যেন মৃত্যুক্ষুধা তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সবার শুধু একটাই সাধনা এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচা। চীনের বেহাল অবস্থার পর ইতালি, কানাডাসহ গোটা বিশ্বের বুকে করোনা ভাইরাস যেন এক স্বয়ম্ভু দানবে রূপ নিয়েছে। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো এর প্রতিষেধক তৈরিতে আদা- জল খেয়ে নেমেছে তবুও তারা হাঁপিয়ে উঠছেন। মানব জাতির ভাগ্য কোন দিকে পরিগমণ করছে তা আজ সকলের চিন্তার মূল বিষয়।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর মতো প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও কভিড-১৯ এর আগ্রাসন হতে নিস্তার পাচ্ছে না। যে হারে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তা এপ্রিল মাস নাগাদ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা । মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, সংক্রমনকারীর সংখ্যাও বাড়ছে কিন্তু বাড়ছেনা মানবিকতা আর সচেতনতা। জাতির এই দুঃসময়ে কিছু নিকৃষ্ট চরিত্রের সুযোগ সন্ধানী  মানুষ নিজের ফায়দা হাসিল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ব্যবসার ছলে মাস্ক, সাবান, হ্যান্ডওয়াশের মূল‍্য বৃদ্ধি করে মানুষকে বিড়ম্বনায় ফেলছে। মাত্র কিছু টাকার লোভে তারা অন্যের প্রাণনাশের কথাও ভুলে যাচ্ছে। এই চরিতার্থ কাজের জন্য সম্পূর্ণ দোষটাও তাদের দেওয়া যায়না। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারাও তার কম কিসে? সে তো স্বভাবত কথা। কিন্তু তার থেকেও অধিকন্তু দোষ বর্তায় আমাদের অসচেতনতার ওপর। সচেতনতাবোধে আমাদের স্বৈরাচারী মনোভাব কাজ করে, আত্মমর্যাদায় আঘাত হানে; চেতনাশক্তি ক্ষীণতায় পূর্ণ হয়।
আইন মান‍্য করতে আমাদের বিবেকে বাধে কিন্তু আইন লংঘনে বড়ই উৎসাহি হই। আমরা বাঁচার কথা ভাবিনা; ভাবি বিলাশ বৎসল‍্যতার কথা। আমাদের আচার- স্বভাবে বৈপরীত্যের ছাপ লেগেছে। সে জন‍্য ভাল পরামর্শ দিলে সেটাকে উল্টিয়ে নিজের চিন্তার পাল্লায় পরিমাপ করি। এতে ক্ষ‍্যান্ত থাকলেও কথা ছিল, কিন্তু তা থাকিনি। তাৎক্ষণিক স্বাধীনতা, চাকচিক‍্যতা; আমোদ- প্রমোদনার লোভে বশিভূত হই; সুদূরপ্রসারী চিন্তা না করেই সাময়িক বিলাসিতাকেই কবুল বলি। ফলস্বরূপ, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সম্ভাব‍্যতাকে নষ্ট করছি। সরকার গৃহিত ব‍্যবস্থাকে অমান‍্য করে পথচলছি এবং নিজে বহনকৃত ব‍্যামো অন‍্যের দরগড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। একবারও ভাবছিনা আমি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার কর্তব্যটুকু পালন করছি কি? আমার একটু দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে দেশ- জাতি কতটা ভয়ানক পরিস্থিতির মধ‍্যে পড়তে পারে? আমার এহেন অনিরাপদ কর্মকাণ্ডে আমার পরিবার কি নিরাপদ? বিশ্বের অন‍্যান‍্য দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে এমন আপদকালীন সময়ে রাষ্ট্র ঘোষিত বার্তার প্রেক্ষিতে তারা নিজ দায়িত্ববোধ থেকে সজাগ ও সর্তক হয়েছেন। কিন্তু আমরা বাঙ্গালীদের শতবার বলা সত্ত্বেও একের পর এক আইন অমান‍্য করেই চলেছি।
সারাদেশে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর পথ- ঘাটে লোক সমাগম অনেকাংশে কমেছে। কিন্তু ভাববার বিষয় হলো কিভাবে এমন লোকহীন রাষ্ট্র করা সম্ভব হলো; এমন গৃহবন্দি আইন কিভাবে মানুষ মেনে নিল? কি এমন ফর্মুলা প্রয়োগ করা হলো যে শহর- বন্দর, রাস্তা- ঘাট, হোটেল- সিনেমা হল, পার্ক- স্টেডিয়াম তথা সম্পূর্ণ বাংলাদেশকে জনমানবহীন সরগোমমুক্ত করা সম্ভব হলো? হ‍্যা, এর পেছনে নিশ্চয় কোন নিগূঢ় রহস‍্য রয়েছে; আর তা হলো বোম্বে থেরাপি। এই বোম্বে থেরাপির সহজ বঙ্গানুবাদ হলো মাইর বা পিটুনি। যাকে গ্রাম বাংলার ভাষায় মহৌষধ বলে আখ‍্যায়িত করা হয়। গতক’দিন ধরে বিভিন্ন সূত্রে অবগত হচ্ছি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাস্কহীন, আড্ডারত ও জমায়েতরত লোকজনদের প্রশাসনিক বাহিনী লাঠি হাতে ধাওয়া দিচ্ছে এমনকি জনকতক দু’চার ঘাঁ খাচ্ছেনও বটে। এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার শিক্ষাটা কভিড-১৯ বেশ ভালো করেই শেখালো। সবাইকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিল- “মাইরের উপর ওষুধ নাই”।
লেখকঃ ছাত্র, একাদশ শ্রেণি, মানবিক বিভাগ, কাঞ্চন নিউ মডেল কলেজ, বিরল, দিনাজপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo