Tuesday 1st of December, 2020 | 2:19 AM

১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস; ফিরে দেখা বদরের প্রান্তর

  • সোমবার, ১১ মে, ২০২০
১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস; ফিরে দেখা বদরের প্রান্তর
১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস; ফিরে দেখা বদরের প্রান্তর

ছবিঃ বদর প্রান্তর

ফিরে দেখা বদরের প্রান্তর

-এম আজম
বছরে বারো মাসের মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যময় ও মহিমান্বিত মাস রমজানুল মুবারক। এই মাসেই ইসলামের ইতিহাসের প্রথমাংশেই মুসলমানদের এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। যদিও মুসলমানরা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং বিজয়ী বেশে রণক্ষেত্র হতে প্রত্যাবর্তন করে।
হিজরী ২য় সন তথা নবী আহমদ (সা) এর মক্কা হতে মদীনাতুল মুনওয়ারায় হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে রমজান মাসের ১৭ তারিখ বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।  মদীনা থেকে প্রায় ৮০ মাইল  দূরে বদর নামক উপত্যকায় মক্কার কাফের- মুশরিকদের বিপক্ষে মদিনার মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ বাধে। ইতিহাসে বদর যুদ্ধই মুসলমানদের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ।ইতোপূর্বেও কাফেরদের সাথে মুসলমানদের খন্ড খন্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। তাছাড়া একটি চমকপ্রদ ঘটনা এই ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের অংশে পরিণত হয়; তা হলো শুরু হতেই ইসলামের চরম দুশমন মক্কার কাফের নেতা আবু জাহেল বদর যুদ্ধে মারা যান। মুসলিম সৈন্য সংখ্যা হলো কাফেরদের সৈন্য থেকে অনেক কম; মাত্র ৩১৩ জন আর মক্কার কুরাইশ কাফেরেরা সংখ্যায় ছিল ৯৫০ জন। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের অধিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার করুণায় এতো কম সংখ্যক মুজাহির নিয়েও কাফেরদের সংখ্যাধিক্যের উপর মুসলমানরা জয়লাভ করে।
বদরের এক প্রান্তে মুসলিম সৈন্য অপর প্রান্তে কাফেরদের অস্ত্রে সুসজ্জিত প্রচুর সৈন্যবাহিনী। মুসলমান সৈনিকরা কাফেরদের অধিক সৈন্য বাহিনী দেখে অনেকটা ভরকে গেল। কিন্তু মহান আল্লাহর ওপর হতে আস্থা হারাননি কেউই। এতো অধিক সৈন্যের সাথে লড়াই করতে হবে মাত্র গুটি কয়েক মুসলিমদের। প্রতি এক জন মুসলিমকে তিন জন প্রতিপক্ষ কাফের সৈন্যের মুখোমুখি হতে হবে। ভাবতেই গাঁ ছমছম করে, তিন জন যদি একজনকে তিন দিক থেকে আক্রমণ করে তাহলে ঐ একজনের যে বাঁচার শংকা থাকেনা তা বলা বাহুল্য রাখেনা। সেখানে পরাক্রমশালী আল্লাহ দলে দলে ফেরেশতা প্রেরণ করে তার কুদরতি সহায়তায় মুসলমানদের বিজয় দান করলেন। প্রতিপক্ষের অধিক সৈন্যবহর দেখে মুসলমানদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়েছিল তা নিম্নোক্ত আয়াতের বর্ণনা থেকেই অনুমেয়। আল্লাহ তায়া’লা বলেন-

বদর প্রান্তরে যখন তোমরা হীনবল ছিলে রাব্বুল আলামিনই তোমাদের সাহায্য করেছিলেন। (সূরা আল ইমরান : আয়াত ১২৩)।

এ যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন নিহত হয় এবং ৭০ জন বন্দি হয়। ১৪ জন সাহাবি শহীদ হন। তাঁদের ১৩ জনের কবর এবং নামফলক বদর প্রান্তরে সংরক্ষিত রয়েছে। আর একজন সাহাবি আহত অবস্থায় মদিনার ফেরার পথে কিছুদূর আসার পর শাহাদত বরণ করেন। সেখানেই তাঁর সমাধি হয়। এ যুদ্ধে মুসলমানদের কেউ বন্দি হননি। বদর যুদ্ধের সবচেয়ে আকর্ষনীয় আক্রমণ হচ্ছে কুরাইশ নেতা আবু জাহেলের প্রতি। যে নেতা দম্ভতার জন্য ইসলাম কবুল তো করেইনি বরং নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটিকে নানাভাবে আঘাত করেছে আল্লাহ তায়া’লা সেই নেতার মৃত্যু দিলেন দু’জন কিশোরের হাতে। আরবের ইয়া বড় নেতার মরণ হলো দুজন কিশোরের আক্রমণে! মৃত্যু এমন বেইজ্জতি হালতে হলো যে গল্পের ছলে দাদা- দাদী, নানা- নানী অথবা গুরুজন কেউ ছোট সোনামণিদের বলে তারা খিলখিল করে হেসে দেয়।

যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে রাসূল (সা.) আল্লাহর দরবারে বার বার দোয়া করছিলেন : হে আল্লাহ্ ! তুমি আমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছো তা পূর্ণ করো, হে রাব্বুল আলামিন আজ যদি এই মুষ্টিমেয় লোকের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত তোমার ইবাদত করবার কেউ থাকবে না। কোরআন মজিদে এরশাদ হয়েছে : স্মরণ করো, তোমরা তোমাদের রবের নিকট সাহায্যের জন্য দোয়া করেছিলে। তিনি তা কবুল করেন এবং বলেন : আমি তোমাদের সাহায্য করবো সহস্র ফেরেশতা দ্বারা যারা একের পর এক আসবে। (সূরা আন্ ফাল : আয়াত ৯)।

উল্লেখ্য যে, বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় লাভ ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটায়। সেদিন যদি মুসলমানরা পরাজর বরণ করত তাহলে পৃথিবীর জমিনে ইসলামের অস্তিত্বও থাকত না, বিলীন হয়ে যেতে। বস্তুত বদরের যুদ্ধ ইসলামের অস্তিত্ব টিকানোর জন্যই ছিল। ঐতিহাসিক বদরের জিহাদ সত্য- মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করেছে। সত্যের জয় এবং মিথ্যার শোচনীয় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তৎকালীন আরববাসী আরো স্পষ্ট হয় যে সত্য ধর্ম কোনটা। তাছাড়া যুূদ্ধের পর যুদ্ধ বন্দিদের সাথে মুসলমানদের অমায়িক ব্যবহার তাদের আরো মুগ্ধ করে এবং ভাবিয়ে তোলে। ঐতিহাসিক বদর দিবস পবিত্র রমজান মাসে আমাদের অনেক কিছুই শিক্ষা দেয়। তার মধ্যে আচরণে অমায়িক, মার্জিত হওয়া। সকল অবস্থায় বিচলিত না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করা, আমানতদারী হওয়ার, রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণে আরো উৎসাহি করে তুলে।
বড়ই দূর্ভাগ্যের কথা যে, নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে বাস করে মুসলিম পরিবারে জন্মলাভ করেও এই দিনটির কথা প্রায় ষাট- সত্তর ভাগ মুসলমানও জানেনা। অথচ এই দিনটি আমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেয় যা মানব জীবনকে সুন্দর করে গড়ার জন্য অপরিহার্য। গোটা এক মাস রমজান তার মধ্যে এই বদর দিবস রমজানের শিক্ষাকে আরো গুরুত্ববহ করে তুলেছে। আসুন, আমরা মাহে রমজান ও বদরের শিক্ষা ধারণ করে নিজেদের জীবন আরে স্বাচ্ছন্দময় ও সুন্দর করে গড়ে তুলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©  2019 All rights reserved by  dailydinajpur.com
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo